নিউজ ডেস্কঃ মস্কোর আগ্রাসনের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ত্রি-পক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলানস্কির এক সহকারী এ কথা জানান। এদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমেক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলানস্কি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, আমরা মনে করি প্রেসিডেন্ট বাইডেন, প্রেসিডেন্ট জেলানস্কি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে ত্রি-পক্ষীয় সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে কাজ করা যেতে পারে। এ সম্মেলন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হতে পারে।’
ওয়াশিংটনে আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে তিনি বলেন, ‘আমরা এ প্রস্তাবের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের আমেরিকান অংশীদাররা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করবে বলে আমি মনে করি।’ জেলানস্কি মঙ্গলবার ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়ার অংশগ্রহণে নতুন একটি সম্মেলন আয়োজনেরও আহ্বান জানান। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া প্রায় ১ লাখ সৈন্য জমায়েত করায় মস্কোর আগ্রাসন চালানো প্রশ্নে কিয়েভের জোরালো আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন আহ্বান জানান। এদিকে সেখানে এ উত্তেজনা বিষয়ে বাইডেন ও পুতিন দুই বার টেলিফোনে কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে রাশিয়া আগ্রাসন চালালে মস্কোকে বড় ধরনের আর্থিক মাশুল দিতে হবে বলে মার্কিন নেতা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। এক সপ্তাহ ধরে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে ইউক্রেনকে নিয়মিতভাবে ব্রিফিং করার জন্য ইয়ারমেক বাইডেন প্রশাসনের প্রশংসা করেন। এসব আলোচনার মধ্যে সোমবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তিনি বলেন, আলোচনায় তার দেশের সরাসরি অংশ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। শুক্রবার ফোনে কথা হয় দুই নেতার। এ সময় ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা সমাবেশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান তারা। ব্রিটিশ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়ান সেনা সমাবেশ নিয়ে দুই নেতা উদ্বেগ জানিয়েছেন। আরো উত্তেজনা এড়াতে ন্যাটোর সম্মিলিত সংকল্পের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যমান সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য ন্যাটোর মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তুর্কি সরকারের যোগাযোগ দপ্তরের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ফোনালাপে সিরিয়া ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে দুই নেতার। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী ইস্যু নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইস্যুর বাইরে ফোনালাপে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন।









Leave a Reply