ডেস্ক রিপোর্ট : হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে গত সপ্তাহে সউদী আরবের প্রতি সদয় হওয়ার আবেদন জানায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ইরানের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির ফলে হিজবুল্লাহ সউদীর দ্বারস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থাটি দুই ইরানি সূত্র এবং হিজবুল্লাহর চিন্তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম গত সপ্তাহে এক বক্তৃতায় সউদী আরবের প্রতি ‘একটি নতুন পাতা উল্টাতে’ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত জোট গঠনের জন্য অতীতের বিরোধ ভুলে যেতে আবেদন জানান।ইরান-সমর্থিত শিয়া মুসলিম গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লেবাননের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে তার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের এমন সংশ্লিষ্টতা আগে কখনো শোনা যায়নি। দেশটির এই হস্তক্ষেপ আরও ইঙ্গিত দেয়, তেহরানও উদ্বিগ্ন যে, গত বছর ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর তাদের এই প্রধান লেবানিজ মিত্র আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা সুন্নি শক্তি সউদী আরব ধারাবাহিকভাবে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে রয়েছে এবং কাসেমের আবেদনের পর থেকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।সউদী কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে রিয়াদের নীতি পরিবর্তিত হয়েছে কিনা তার কোনো জবাব দেননি।
হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বিষয়টি লেবাননে তিক্তভাবে বিভাজন তৈরি করেছে এবং নিরস্ত্রীকরণ ক্রমশ জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করতে বৈরুতকে চাপ দিচ্ছে এবং ইসরায়েল দেশটিতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের হস্তক্ষেপ
রয়টার্সের বরাতে দুই ইরানি সূত্র এবং হিজবুল্লাহর চিন্তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে সউদীদের কাছে এই আবেদন জানানো হয়েছিল সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন সিনিয়র উপদেষ্টা আলী লারিজানির মাধ্যমে, তিনি সম্প্রতি রিয়াদ সফর করেন।
হিজবুল্লাহর চিন্তা সম্পর্কে পরিচিত সূত্রটি জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি মনে করে যে, এই মাসে সউদী আরবের উপসাগরীয় মিত্র কাতারে হামাস নেতাদের উপর ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতি যথেষ্ট পরিবর্তন করেছে, যাতে পুরানো শত্রুতা মুছে ফেলা যায়।
তবে, সূত্রটি আরও বলেছে, গোষ্ঠীটি কেবল ইরানীদের কাছ থেকে সংকেত পাওয়ার পরই সউদী আরবের কাছে আবেদন করে। লারিজানি কাসেমকে সউদীর প্রতি সদিচ্ছা দেখাতে অনুরোধ করেছিলেন।ইরানের সূত্রগুলোর মধ্যে একটি বলেছে, লারিজানির রিয়াদ সফরের সময় হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু ছিল। অন্য ইরানি সূত্রটি বলেছে, লারিজানি সউদী আরবকে বলেছিলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করলে লেবানন বা বৃহত্তর অঞ্চল কারোই লাভ হবে না।সাবেক আঞ্চলিক শত্রু ইরান এবং সউদী আরব বহু বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরে ২০২৩ সালে একটি ঘনিষ্ঠতা চুক্তিতে সম্মত হয়। তবে, সউদী আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিতে ইরানের প্রভাব নিয়ে এখনও সতর্ক রয়েছে।
Leave a Reply