ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন।সম্প্রতি ভারতীয় আদালতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দিল্লির নিকটবর্তী মানেসার এলাকার একটি বৃহৎ গুদামে শ্রমিকদের জন্য অমানবিক কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের মে মাসে, মানেসার গুদামে একটি ঘটনার সূত্র ধরে শ্রম পরিদর্শক দল তদন্ত শুরু করে।অভিযোগ ওঠে যে, শ্রমিকদের কাজের সময় জলপান বা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য বিরতি নেওয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে।অ্যামাজন এই ঘটনাকে “দুর্ভাগ্যজনক এবং বিচ্ছিন্ন” হিসেবে চিহ্নিত করলেও, এ নিয়ে তদন্তে আরও শ্রম আইন লঙ্ঘনের তথ্য উঠে আসে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদেকে অস্বাভাবিকভাবে কঠিন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়।গুদামে কাজের সময় ১০ ঘণ্টা হলেও, এর মধ্যে মাত্র দুটি ৩০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হয়। বিশ্রামের জন্য আলাদা কোনো স্থানও নেই।এছাড়া, অ্যামাজনের ADAPT (অ্যাসোসিয়েট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পারফরম্যান্স ট্র্যাকার) সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মীদের কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি কেউ তিনটি নেতিবাচক পারফরম্যান্স রিপোর্ট পান, তবে তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
অ্যামাজন এ নিয়ে আদালতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এবং জানিয়েছে যে, তাদের কর্মপরিবেশ শিল্পের মান বজায় রেখে তৈরি এবং শ্রমিকদের কল্যাণে সবসময় সচেষ্ট। তবে, শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো অ্যামাজনের এই দাবির বিরোধিতা করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ করছে।
ভারতের মাটিতে অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং এর প্রেক্ষিতে আদালতের হস্তক্ষেপ, দেশের শ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। শ্রমিকরা কাজের সম্মানজনক পরিবেশ দাবি করছেন, যা তাদের অধিকার।চলতি বছর ডিসেম্বর এর ১০ তারিখে আদালতের পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
Leave a Reply