শিরোনাম :
আমি মনে করি গাজা নিয়ে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে’ : ট্রাম্প ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিতে এশিয়ার বাজারে পতন ইরানের হস্তক্ষেপে সউদীর প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানায় হিজবুল্লাহ পবন কল্যাণের ‘দে কল হিম ওজি’ ইতিহাস গড়ল প্রথম দিনেই ভের্ডার ব্রেমেনকে উড়িয়ে শীর্ষে বায়ার্ন, রেকর্ড গড়লেন কেন শেখ হাসিনার বিচার আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস ভোটমুখী বিহারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শুরু, লালুকে বার্তা পাঠিয়ে সীমাঞ্চল যাত্রায় ওয়েইসি মিশিগানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শিল্পীদের সম্মাননায় ‘তারকা অ্যাওয়ার্ড’ ১২ অক্টোবর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিদ্রূপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি হলে গাজা পুনর্গঠনে সম্মেলনের আয়োজন করবে মিশর

হালাল রিজিকের গুরুত্ব

Reporter Name
  • বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : হালাল রিজিকের সংজ্ঞা : হালাল অর্থ হলো বৈধ বা অনুমোদিত, আর রিজিক অর্থ জীবিকা বা জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। হালাল রিজিক মানে এমন উপার্জন যা ইসলামিক বিধান অনুযায়ী বৈধ উপায়ে অর্জিত এবং যার মধ্যে হারাম বা অবৈধ কিছু নেই। এর অর্থ হচ্ছে এমন কোনো উপার্জন গ্রহণ করা যাবে না যা আল্লাহ এবং তার রাসূল (সা.) নিষিদ্ধ করেছেন।

হালাল রিজিকের গুরুত্ব : ইসলামে হালাল রিজিক বা বৈধ উপার্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল এবং হারাম পার্থক্য করে দিয়েছেন। রিজিক তথা জীবনযাপনের উপকরণে হালাল এবং পবিত্র উপায় অবলম্বনের গুরুত্ব দিয়ে ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে। হালাল রিজিক গ্রহণ এবং হারাম থেকে বিরত থাকা ইসলামের মৌলিক নীতির অন্তর্ভুক্ত।

১. আল্লাহর নির্দেশ পালন: কুরআন এবং হাদিসে বহুবার হালাল রিজিকের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নিজে আমাদের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শুধু হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবনযাপন করতে। কুরআনে বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের উপার্জন থেকে এবং আমি যা তোমাদের জন্য পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র করেছি তা থেকে আহার করো” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৮) ।

২. ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত: হালাল রিজিক ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলামে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবনযাপন না করলে ইবাদত কবুল হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

রাসূল (সা.) বলেছেন, হালাল রিজিক খাও এবং তোমার দোয়া কবুল হবে। যদি কেউ হারাম উপার্জন করে তবে আল্লাহ তার দোয়া ও ইবাদত কবুল করেন না।

৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়ার বিকাশ: ইসলামে হালাল রিজিক গ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সহজ হয়। আল্লাহর ভয়ে নিজের উপার্জন বৈধ পন্থায় সীমাবদ্ধ রাখা তাকওয়ার পরিচায়ক, যা একজন মুসলিমের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে, বিশেষ করে রিজিকের ক্ষেত্রে। হালাল রিজিক গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছাকাছি হতে পারি এবং এর মাধ্যমে ঈমান আরও শক্তিশালী হয়।

৪. পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বরকত আনা: হালাল উপার্জনের কারণে পরিবারে বরকত হয় এবং আল্লাহ তায়ালা পরিবারে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন। হালাল রিজিকের ফলে পরিবারের সদস্যরা ভালো কাজের প্রতি আগ্রহী হয় এবং তাদের মন ও মনের ভাব আল্লাহর পথে থাকে।
হারাম উপার্জন, বিপরীতে, সংসারে অশান্তি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। হালাল উপার্জন শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজের জন্যও উপকারজনক।

৫. নৈতিক ও নৈতিকতার উন্নয়ন: ইসলামে হালাল রিজিক গ্রহণের গুরুত্ব হচ্ছে এটি আমাদের নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়। একজন সৎ ব্যক্তি হালাল উপায়ে উপার্জন করে সমাজে মর্যাদা পায় এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সৎ উপার্জনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৎ গুণাবলীর উন্নয়ন হয় এবং সমাজে সুনাম অর্জন করা যায়। ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, সেবামূলক পেশা ইত্যাদি বৈধ উপায়ে উপার্জন করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে একজন মুসলিমের নৈতিকতা দৃঢ় হয় এবং এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে শুদ্ধাচারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬. হারাম রিজিকের প্রভাব থেকে মুক্তি: হারাম উপার্জনের কারণে মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায় এবং তারা সহজেই পাপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকার ফলে একজন মুসলিমের মন ও মনন বিশুদ্ধ থাকে এবং তার আত্মা আল্লাহর পথে স্থির থাকে। ইসলামে হারাম রিজিককে শয়তানের পথ বলা হয়েছে, যা একজন মুসলিমের জীবন ও ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।

হারাম উপার্জন মানুষের অন্তরে দুঃশ্চিন্তা, অস্থিরতা এবং পাপের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করে। এ কারণে ইসলামে হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৭. আখিরাতে পুরস্কার লাভের প্রতিশ্রুতি: ইসলামে বলা হয়েছে যে, যারা সৎপথে হালাল উপার্জন করে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলে, তাদের জন্য জান্নাতে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্য আখিরাতে আল্লাহর কাছে মর্যাদা ও সম্মানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হালাল রিজিক উপার্জনের জন্য চেষ্টা করা একপ্রকার ইবাদত।” অতএব, হালাল রিজিক আখিরাতে সফলতা লাভের মাধ্যম এবং এর দ্বারা একজন মুসলিম আল্লাহর কাছ থেকে মাগফিরাত ও রহমত অর্জন করতে পারে। (চলবে)

লেখক: প্রভাষক, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ALL RIGHTS RESERVED -2020-2024
Design & Developed by positiveit.us