শিরোনাম :
আমি মনে করি গাজা নিয়ে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে’ : ট্রাম্প ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিতে এশিয়ার বাজারে পতন ইরানের হস্তক্ষেপে সউদীর প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানায় হিজবুল্লাহ পবন কল্যাণের ‘দে কল হিম ওজি’ ইতিহাস গড়ল প্রথম দিনেই ভের্ডার ব্রেমেনকে উড়িয়ে শীর্ষে বায়ার্ন, রেকর্ড গড়লেন কেন শেখ হাসিনার বিচার আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস ভোটমুখী বিহারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শুরু, লালুকে বার্তা পাঠিয়ে সীমাঞ্চল যাত্রায় ওয়েইসি মিশিগানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শিল্পীদের সম্মাননায় ‘তারকা অ্যাওয়ার্ড’ ১২ অক্টোবর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিদ্রূপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি হলে গাজা পুনর্গঠনে সম্মেলনের আয়োজন করবে মিশর

ইসরাইলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের

Reporter Name
  • শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: লেবাননেন স্থল অভিযান শুরুর কয়েকদিন আগে সীমান্তের ব্লু লাইন থেকে কিছু শান্তিরক্ষী সরিয়ে নিতে জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছিল ইসরাইল। কিন্তু সেই অনুরোধ রাখেনি জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশনস ইন্টেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউএনআইএফআইএল) ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সীমান্ত থেকে শান্তিরক্ষীদের সরিয়ে নিতে অনুরোধ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে লাক্রোয়া। লাক্রোয়ার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, জাতিসংঘ আগে থেকেই লেবাননের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইলের স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা অনুমান করেছিল। তাই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা।

ব্লু লাইন হল জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া একটি লাইন যা লেবাননকে ইসরাইল ও ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে পৃথক করেছে। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে চলে যাওয়া ইসরাইলি বাহিনী ব্লু লাইনের অপর পাশে অবস্থান নেয়। যে কোনো পক্ষ থেকে অনুমোদনবিহীনভাবে স্থল বা আকাশপথে ব্লু লাইন পার হলে তাকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে ধরা হয়। দুই রাষ্ট্রকে বিভক্তকারী ব্লু লাইন বরাবর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বেশ কয়েকটি দেশের সেনাবাহিনী থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের আনা হয়েছিল। ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের আক্রমণ করার পর ১৯৭৮ সালে ইসরাইলের সঙ্গে থাকা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের মোতায়েন করা হয়। এই শান্তিরক্ষী বাহিনীটি ‘ইউএন ইন্টেরিম ফোর্স ইন লেবানন’ বা ইউএনআইএফআইএল নামে পরিচিত। প্রতি বছর জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ বাহিনীটির দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করে দেয়। ২০০৬ সালে ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর মাসব্যাপী যুদ্ধের পর নিরাপত্তা পরিষদ ১৭০১ প্রস্তাব গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ইউএনআইএফআইএল দায়িত্ব বিস্তৃত করে।

মৃত্যুপুরী’ লেবানন, নিহত ছাড়াল ২ হাজার, বাস্তুচ্যূত ১২ লাখ : যুদ্ধের কালো মেঘে আকাশ অন্ধকার লেবাননের। ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাকে টার্গেট করে সেখানে নৃশংস হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনা। মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ছে বোমা। আঘাত হানা হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। ইসরাইলের হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে লেবাননের রাজধানী বৈরুত। প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। ইতিমধ্যে গোটা দেশে মৃতের সংখ্যা দুহাজার পেরিয়ে গিয়েছে। ঘরছাড়া প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

হিজবুল্লা সদস্যদের পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছে বহু সাধারণ মানুষ। যুদ্ধের শিকার নিষ্পাপ শিশুরাও। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই সংঘাতে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জন শিশু ও ২৬১ জন মহিলার। আহতের সংখ্যা বহু। এই মুহূর্তে গাজারই যেন আর এক ছবি ফুটে উঠেছে লেবাননে। হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে আহতের ভিড়ে। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মৃতদেহ। স্বজনহারা কান্নায় বাতাস ভারী। চারদিকে গোলা-বারুদের কান ফাটানো আওয়াজ। প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা সিরিয়ায় যাচ্ছে। এদিকে, এক বছর পূর্ণ হবে গাজা যুদ্ধের। কিন্তু একইরকম আক্রমণের ঝাঁজ বজায় রেখেছে ইসরাইল। হামাসকে সমূলে নিধন করতে লাগাতার হামলা চলছে।

সমর বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় এক বছর হতে চলল গাজায় ‘ধবংসযজ্ঞ’ চালাচ্ছে ইসরাইল। এবার সংঘাত শুরু হয়েছে লেবাননে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইহুদি দেশটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লা। তাদের যুক্তি ছিল গাজায় হামাসকে সমর্থন জানিয়েই এই আক্রমণ শানানো হচ্ছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর উত্তপ্ত করে রেখেছে ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের হাউথিরা। কয়েক মাস আগেই তারা তেল আভিভের মার্কিন দূতাবাসের সামনে ড্রোন হামলা চালায়। সেখানেও ঘটে প্রাণহানি। আর এদের মাথায় রয়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে তেহরান। ফলে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল গাজায়, তা এবার লেবানন হয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে।

স্ত্রী-সন্তানসহ হামাসের শীর্ষ নেতা নিহত : লেবাননের ত্রিপোলিতে বেদদাউই ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখার শীর্ষ নেতা সাইদ আতাল্লাহ স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল হামাস-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ফিলাস্টেনের বরাতে এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইদ আতাল্লা তার পরিবারের তিন সদস্যসহ উত্তর লেবাননের ত্রিপোলিতে বেদদাউই ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় নিহত হয়েছেন। লেবাননের দৈনিক আন-নাহার বলছে, নিহতদের মধ্যে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছেন। এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আতাল্লাহ এবং তার পরিবার যে অ্যাপার্টমেন্টে ছিল তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও হামাস এখনও আতাল্লাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) বলেছ, আতাল্লাহ তার স্ত্রী এবং দুই কন্যা নিহত হয়েছেন।

হুথিদের লক্ষ্য করে নৌ ও বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে তারা ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের অন্তত পনেরটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন বলেছে ‘নৌ চলাচল নির্বিঘœ’ রাখতে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের প্রধান কয়েকটি শহরে কিছু বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে অন্তত একশ জাহাজে হামলা করেছে এবং এর মধ্যে দুটি নৌযান ডুবে গেছে। বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি বলেছে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে তারা এসব হামলা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকা-ের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে এবার হুথিদের অস্ত্র সম্ভার, ঘাঁটি ও অন্য উপকরণ লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। হুথি সমর্থিত মিডিয়া জানিয়েছে যেসব শহর আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে সানা একটি। সোমবার হুথিরা জানিয়েছে তারা ইয়েমেনের আকাশসীমায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এমকিউ-৯ রিয়েপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি মনুষ্যহীন আকাশযান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে পেন্টাগন বলেছে হুথিরা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে ‘জটিল হামলা’ চালিয়েছে। যদিও হুথিদের নিক্ষেপ করা সব কিছুই গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ইয়েমেনের লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সানায় গত দু বছর তেমন কোন বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। তবে লোহিত সাগরে নৌযানের ওপর হামলার পাশাপাশি হুথিরা সরাসরি ইসরাইলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ALL RIGHTS RESERVED -2020-2024
Design & Developed by positiveit.us