শিরোনাম :
আমি মনে করি গাজা নিয়ে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে’ : ট্রাম্প ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিতে এশিয়ার বাজারে পতন ইরানের হস্তক্ষেপে সউদীর প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানায় হিজবুল্লাহ পবন কল্যাণের ‘দে কল হিম ওজি’ ইতিহাস গড়ল প্রথম দিনেই ভের্ডার ব্রেমেনকে উড়িয়ে শীর্ষে বায়ার্ন, রেকর্ড গড়লেন কেন শেখ হাসিনার বিচার আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস ভোটমুখী বিহারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শুরু, লালুকে বার্তা পাঠিয়ে সীমাঞ্চল যাত্রায় ওয়েইসি মিশিগানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শিল্পীদের সম্মাননায় ‘তারকা অ্যাওয়ার্ড’ ১২ অক্টোবর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিদ্রূপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি হলে গাজা পুনর্গঠনে সম্মেলনের আয়োজন করবে মিশর

লিগ্যাল এইডে আমার ভূমিকা নেই, সব আমলা : প্রধান বিচারপতি

Reporter Name
  • মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) নানা অসামাঞ্জসতা ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

তিনি বলেন, এই সংস্থার জাতীয় কমিটিতে প্রধান বিচারপতির কোনো ভূমিকা নেই। প্রধান বিচারপতির কোনো প্রতিনিধিও নেই। মন্ত্রীর পরে কমিটিতে যারা আছেন, সব আমলা। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি কার কাছে দায়বদ্ধ, তাও স্পষ্ট করা নেই। এ বিষয়গুলি এনামলি (অসামাঞ্জসতা)।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত ‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এবং “উচ্চ আদালতে স্মার্ট আইনি সেবার প্রসার” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মোহাম্মদ আল মামুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মঞ্জুরুল হক, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এই কমিটির সদস্য সচিব অবন্তী নুরুল বক্তব্য রাখেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি যতটুকু দেখলাম, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কমিটি গঠনের কার্যাবলিতে বলা আছে কমিটিতে কারা থাকবেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কোনো প্রতিনিধি সেখানে নেই। রেজিস্টার জেনারেল সেখানের সদস্য হিসেবে আছেন। কিন্তু তিনি সেখানে পদাধিকার বলে। আমার দেয়ার না দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আবার সব সচিবরা আছেন। আরও দুইজন আছেন যাদেরকে সংসদসের স্পিকার মনোনীত করবেন। লিগ্যাল এইড বা আইনি সেবার এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কোনো রোল নেই।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে যে লিগ্যাল এইড কমিটি আছে, এইখানে প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন সভাপতি হবেন। তিনি হবেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, তার সঙ্গে কে থাকবেন সেটাও বলা আছে। কিন্তু তিনি কার কাছে দায়বদ্ধ? জাতীয় আইনগত সহায়তার কাছে নাকি প্রধান বিচারপতির কাছে? এ বিষয়টি স্পষ্ট করা নেই।

এ সময় তিনি ভারতের জাতীয় আইনগত সহায়তা (ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিস অথোরিটি) সংস্থার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানের প্রধান হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, আর তার প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন। সিনিয়র ডিস্ট্রিক জাজরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজেট কিন্তু সরকার থেকে আসে। সবখানে কিন্তু বিচার বিভাগের প্রাধান্য।

তিনি বলেন, আর আমাদের লিগ্যাল এইড কমিটিতে মন্ত্রীতো আছেনই। যদিও তিনি একজন আইনজীবী। সব সময় আইনজীবীই আইনমন্ত্রী হবেন, এটাও না। তিনি বাদে বাকী যারা আছেন সবই কিন্তু আমলা। অমুক সেক্রেটারি, তমুক সেক্রেটারি। পৃথিবীর সব থেকে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, তাদের চিন্তা আর আমাদের চিন্তার মধ্যে পার্থক্য দেখেন।

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার বাজেট সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, বাজেট যদি না থাকে আপনি যা ই বলেন, কিছু করতে পারবেন না। ক্ষুধা যখন লাগে তখন কিন্তু ক্ষুধাই লাগে। পেট চো চো করে। আপনি লিগ্যাল এইড দিচ্ছেন, যে আইনজীবী আমাদের এই সহায়তা দিচ্ছেন তাকে কি আমরা সামান্য কিছু দিতে পারছি, প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সাবেক তিনজন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জানলাম বাজেট অনেক কম। মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। একটা অনুষ্ঠান করতে গেলে বেশি টাকা খরচ করা যাবে না। তাতে বাধা দেয়। কে বাধা দেয়? জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা। এই যদি হয় অবস্থা। বাজেট যদি কম থাকে, তাহলে কেমন করে কাজ করবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, মানুষের দৌড়গড়ায় যদি আপনি পৌঁছাতে চান, মানুষের জন্য যদি আইনগত সহায়তা পৌঁছাতে চান তাহলে অবশ্যই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এটা চিন্তা করা দরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ALL RIGHTS RESERVED -2020-2024
Design & Developed by positiveit.us