শিরোনাম :
আমি মনে করি গাজা নিয়ে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে’ : ট্রাম্প ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিতে এশিয়ার বাজারে পতন ইরানের হস্তক্ষেপে সউদীর প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানায় হিজবুল্লাহ পবন কল্যাণের ‘দে কল হিম ওজি’ ইতিহাস গড়ল প্রথম দিনেই ভের্ডার ব্রেমেনকে উড়িয়ে শীর্ষে বায়ার্ন, রেকর্ড গড়লেন কেন শেখ হাসিনার বিচার আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার: ড. ইউনূস ভোটমুখী বিহারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শুরু, লালুকে বার্তা পাঠিয়ে সীমাঞ্চল যাত্রায় ওয়েইসি মিশিগানে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও শিল্পীদের সম্মাননায় ‘তারকা অ্যাওয়ার্ড’ ১২ অক্টোবর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিদ্রূপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি হলে গাজা পুনর্গঠনে সম্মেলনের আয়োজন করবে মিশর

মাস্ক পরা না-পরা নিয়েও এখন রাজনীতি করা হচ্ছে

Reporter Name
  • মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্কঃ  যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাঁদের ঘরের বাইরে মাস্ক পরার দরকার নেই। তবে বাইরে ভিড় থাকলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)। তবে এই মাস্ক পরা না-পরা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিডিসি নির্দেশনা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাঁদের ঘরের বাইরে মাস্ক পরার দরকার নেই। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখনো নিয়মিত বাইরে মাস্ক পরছেন। এ কারণেই এই বিতর্কের শুরু। রিপাবলিকানরা এই সুযোগ নিয়ে বলছেন, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়েও সিডিসির নির্দেশনা মানছেন না।

২ মে সিএনএনের ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বাইডেনের এই মাস্ক পরা নিয়ে কথা বলেছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা অনিতা দুন। তিনি বলেন, দুই ডোজ টিকা নিয়েও অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মাস্ক পরছেন। এ ছাড়া মাস্ক পরা এখন অভ্যাসেও পরিণত হয়েছে।

রিপাবলিকানরা এখন নানাভাবে বাইডেন প্রশাসনের খুঁত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। বাইডেনের মহামারি নিয়ন্ত্রণের কৌশলে জনসমর্থন ঠেকানোর চেষ্টাও করছে দলটি। সিডিসির সাম্প্রতিক নির্দেশনার সূত্র ধরে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি বাইডেনকে দোষারোপ করছে। তারা বলছে, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়েও সিডিসির নির্দেশনা ভঙ্গ করে অপরাধ করছেন। এটা নিয়ে এখন ডানপন্থী টক শোগুলোতে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

রিপাবলিকানরা বলছেন, বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিকভাবে মাস্ক ইস্যুতে মার্কিনদের স্বাধীনতা হরণে সরকারের শক্তি ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়, বরং করোনায় স্বাস্থ্যবিধির কঠোরতা মার্কিনদের ব্যক্তি স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাধা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারি নিয়ে সিডিসি অত্যধিক সতর্ক। তারা কেন মাস্ক পরা নিয়ে বিতর্ক ও দ্বন্দ্বের উদ্রেককারী নির্দেশনা জারি করল।

অনেকেই বলছেন, করোনা মহামারি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া কারও আগে থেকে জানা নেই। এটি নতুন এক পরিস্থিতি। দেশের ১০ কোটির বেশি মানুষকে পূর্ণ ডোজ টিকা দেওয়া কোনোভাবেই বাইডেন প্রশাসনের সাফল্যে হতে পারে না। কারণ, ১০ কোটির বেশি মানুষের পূর্ণ ডোজ টিকা পাওয়া কোনোভাবেই নিশ্চয়তা দেয় না, করোনা আর বিপজ্জনক নয় বা ছড়াবে না।

মাস্ক পরা নিয়ে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিতর্ককে আবার অনেক সমালোচক সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ের বিতর্কের অনুশীলন বলে মনে করছেন। ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে মাস্ক না পরার পক্ষে ছিলেন, যা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আর বাইডেনও ওই মাস্ক নিয়েই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। সিডিসি নির্দেশনা জারি করলেও মানছেন না বাইডেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ এই দুই আচরণে বিভ্রান্ত হচ্ছে।

আর এবার সিডিসি ঘোষণা দিয়েছে, যাঁরা করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাঁদের ঘরের বাইরে মাস্ক পরার দরকার নেই। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন এরপরও মাস্ক ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে গত ৩০ এপ্রিল এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়ার পরও নিয়মিত মাস্ক পরাটা আমার দেশপ্রেম থেকে দায়িত্ববোধ বলেই মনে করি।

গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে সিডিসি বলেছে, যাঁরা করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাঁরা ঘরের বাইরে ভিড় কম থাকলে মাস্ক ছাড়াই যেতে পারবেন, হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর মহামারির কারণে যেসব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, তার অনেকগুলোই করা সম্ভব। তবে ঘরের বাইরে অনুষ্ঠিত কনসার্ট, প্যারেড, খেলাধুলা বা ভিড়ের মধ্যে গেলে মাস্ক পরা খুবই প্রয়োজন।

সিডিসি আরও বলেছে, বদ্ধ ঘর যেমন মুভি থিয়েটার, শপিং সেন্টার বা মিউজিয়ামে ভিড় কম থাকলেও মাস্ক পরতে হবে।

করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর দুই সপ্তাহ পার করেছেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরার এই শিথিলতা জারি করা হয়েছে।

মাস্ক নিয়ে বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও একমত হতে পারছেন না। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও কার্ডিয়াক সার্জন জোনাথন রেইনার বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিডিসি খুব দক্ষ ও সতর্ক হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও গত ১২ মাস মাস্ক পরেছেন। তবে কেউ যদি পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়ে থাকেন, তাহলে কোভিড-১৯ তাঁর আর তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এ কারণে ওই ব্যক্তির আর মাস্ক পরার খুব একটা দরকার নেই।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা সতর্ক করেছেন, করোনার সংক্রমণ রোধ করতে অধিকসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনতেই হবে।

তবে গত সপ্তাহে সিএনএনের এক জরিপে ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, তাঁরা করোনার টিকা নেওয়ার চেষ্টাও করেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ALL RIGHTS RESERVED -2020-2024
Design & Developed by positiveit.us