ডেস্ক রিপোর্ট : মুখের অভ্যন্তরে গালের মিউকাস মেমব্রেন, মাড়ি বা অন্য স্থানে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার হতে পারে। আমাদের দেশে ধূমপানের পাশাপাশি পানে জর্দা খাওয়ার কারণে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সাধারণত দাঁত নড়া অবস্থায় রোগী ডাক্তারের নিকট শরণাপন্ন হলে দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাঁতটি ফেলে দেয়া হয়। ধরেই নেয়া হয় যে পেরিওডন্টাইটিস এর কারণে দাঁত নড়ে গেছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় মাড়ির পাশে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বা ক্যান্সার হলেও ধীরে ধীরে একটি বা দুটি দাঁত নড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগ নির্ণয় না করে দাঁত ফেলে দিলে খুব দ্রুত ক্যান্সার কোষ শরীরে বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে ক্যান্সারের স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যাহত হয় এবং সহজ চিকিৎসা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই দাঁত নড়া রোগীদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক রুগীদের।
দাঁত নড়া রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসককে রোগের যথাযথ ইতিহাস গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে। তা না হলে দাঁত তোলার পর যখন ক্যান্সার ধরা পড়বে তখন রোগী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে এই বলে যে দাঁত তুলে ডাক্তার তার ক্যান্সার সৃষ্টি করেছে। রোগীদের একটি কথা মনে রাখতে হবে, দাঁত নড়ে গেলে ডাক্তারের নিটক যেয়ে দাঁত ফেলে দেয়ার কথা নিজে থেকে বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা ছাড়াও অনেক সময় মুখের অভ্যন্তরে রক্তনালীর টিউমার যেমন- হেমানজিওমা হলে দাঁত নড়ে যেতে পারে। সেসব ক্ষেত্রেও ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দাঁত ফেলে দিলে বড় ধরনের সমস্যা যেমন অঝোর ধারায় রক্তপাত হতে পারে যে কারণে জীবন বিপন্ন হতে পারে। মোটকথা টিউমার, সিস্ট এবং অন্য কারণেও দাঁত তুলতে হতে পারে। মুখের অভ্যন্তরে দাঁতের পাশে কোন আলসার বা ঘা দেখা গেলে সঠিক কারণ নির্ণয় করে তবেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
Leave a Reply