ডেস্ক রিপোর্ট: একদিকে চীন, অন্যদিকে পাকিস্তান- দুই প্রতিবেশী দেশের হামলার আশঙ্কা ভারতে সব সময়ই রয়েছে। সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি ‘শত্রু’র ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখতে সক্ষম হবে? ইসরাইলের মতো শত্রুদেশের মিসাইল হামলা ঠেকাতে এবার ভারতের আকাশসীমায় ‘আয়রন ডোমের’ মতো প্রযুক্তি ভারতের কাছেও আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এপি সিং। নিজস্ব এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলেপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। এই সিস্টেম তৈরি হয়ে গেলেই শত্রুপক্ষের কাছ থেকে ধেয়ে আসা দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ও স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ড্রোন হামলা ঠেকাতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেজ্ঞরা। ডিআরডিও সূত্রে খবর, ২০২৮-২৯ সালের মধ্যেই এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট কুশ’।‘ ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর জন্য ২১ হাজার ৭০০ কোটি অর্থ অনুমোদন পেয়েছে ডিআরডিও। সরকারি এবং বেসরকারি অংশীদারদের সাহায্যে তৈরি হবে এই প্রকল্প। সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ‘প্রজেক্ট কুশ’ সফল হলে শুধু ইসরাইলের ‘আয়রন ডোম’ নয়, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৪০০ সিস্টেম’ এবং আমেরিকার ‘প্যাট্রিয়ট’-এর থেকেও বেশি কার্যকর হবে। কুশ প্রকল্পের অধীনে তৈরি সম্পূর্ণ ভাবে দেশীয় প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘লং রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (এলআর-এসএএম)’এর মধ্যে রয়েছে আকাশে বহু দূর পর্যন্ত নজরদারি করার ক্ষমতা। এটি ১৫০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা মিসাইলকে চিহ্নিত ও তাকে ধ্বংস করতে সক্ষম। কৌশলগত ভাবেও কাজ করতে সক্ষম হবে ভারতীয় ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’। দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র একে অপরের দিকে ছোড়া হলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষমতা হবে প্রায় ৯০ শতাংশ। আকাশসীমায় কড়া নজরদারি চালাতে পারবে ভারতের ‘আয়রন ডোম’। রকেট হামলা হোক বা ক্ষেপণাস্ত্র,এমনকি ড্রোন হামলার কোনও কিছুই এর নজর এড়িয়ে যেতে পারবে না। দেশের মাটিতে হামলা চলার আগে আকাশেই সেই লক্ষ্যবস্তুকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এলআর-এসএএম। পাকিস্তানের হাতে এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও চিনের কাছে ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ রয়েছে। সেগুলির ক্ষমতা রাশিয়ার এস-৪০০ সিস্টেমের থেকে কমজোরি হলেও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত। ভারতের কাছে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া তিনটি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
Leave a Reply